খানসামায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব আলোকফাঁদ
২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:১১
প্রিন্টঅ-অ+
মো. নুরনবী ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃষকদের কাছে ধানে আক্রান্ত পোকামাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম হচ্ছে আলোকফাঁদ। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বর্তমানে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৮০টি বøকে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আমন ফসলের খেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোকফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি বর্তমানে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমনধানের খেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বালিয়ে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরছেন কৃষকরা। নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর উপস্থিতি দেখে ধানখেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা খুব সহজেই নিরূপণ করতে পারছেন।
 
এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা তাদের আমনখেতে কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রয়োগ করতে পারছেন। এতে করে পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন এই এলাকার কৃষকরা। এই আলোকফাঁদ ব্যবহার করে এলাকার অনেক কৃষক বর্তমানে খুব কম কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
 
 
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে।
 
 
উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের কৃষক সোলেমান, বিজয় বাজারের বঙ্কিম রায়, পাকেরহাটের হাসান আলী জানান, আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছি। সহজলভ্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই খেতের পোকামাকড় নিধন করতে পারছেন। পোকামাকড়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে করে তাদের খরচ অনেকটাই কমে এসেছে।
 
 
উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ বাসুদেব রায় জানান, খানসামা উপজেলায় প্রতি সপ্তাহের সোমবার করে একযোগে সব ব্লকে আলোকফাঁদ স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যার পর কৃষকদের উপস্থিতিতে এর মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের বালাই সম্পর্কে সচেতন করা হয়। তবে এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের খেতে পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। অপরদিকে কম খরচে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।
 

সর্বশেষ সংবাদ

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd