বইমেলার পরিসর এবার আরও বাড়ছে
০৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
অমর একুশে বইমেলা
এজাজুল হক মুকুল
 
বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলার আর বাকি মাত্র ২৩ দিন। তাই বসে নেই আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি, লেখক-প্রকাশকরা। মেলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে ইতোমধ্যে তারা শুরু করেছেন জোর প্রস্তুতি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবার ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলবে এ মেলা। 
জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতবারের তুলনায় এবারও বাড়ছে মেলার পরিসর। সে সঙ্গে বাড়তে যাচ্ছে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। ফলে বাড়ছে মেলার স্টল ও ইউনিট। পাশাপাশি বাড়ছে প্যাভিলিয়নের সংখ্যাও। আর এবারই প্রথমবারের মতো লেখক ও প্রকাশকদের মেলাপ্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য পৃথক গেট থাকছে। যা দিয়ে বয়স্ক মানুষ ও সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন।
তবে বইমেলার পরিসর বাড়লেও পাঠক বাড়ছে কি-না, বইয়ের মান বাড়ছে কি-না সে প্রশ্ন অনেকের। এ ছাড়া এ মেলা মূলত লেখক-পাঠক এবং প্রকাশের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এর অবদান কতটা তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। 
লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার পরিধিসহ সুযোগ-সুবিধা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ও পাঠক। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ওই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও। কিন্তু ৩৫-৪০ বছর আগে যে প্রত্যাশা নিয়ে বইমেলার শুরু, তা শতভাগ পূরণ হয়নি। তাদের মতে, আগে বইমেলার যে গাম্ভীর্য ছিল তা এখন কমে এসেছে।
এ ব্যাপারে লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এখন প্রকাশকরা চায় সংখ্যা বাড়াতে, মান নয়। এখনকার বইমেলায় হুজুগের মতো করে বই বের হয়। আগে অল্প বই বের হলেও তা ছিল মানসম্পন্ন। এখন বইমেলায় অংশ নিতে নির্দিষ্টসংখ্যক বইও লাগে। কিন্তু অনেক যাচ্ছেতাই বইয়ের চেয়ে ভালো বই অল্পও ভালো।
এদিকে সরেজমিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও বাংলা একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মেলার প্রস্তুতি পর্ব। এবড়ো-খেবড়ো মাঠকে সমান করতে ফেলা হচ্ছে নতুন মাটি। সে সঙ্গে মাঠের পরিধির হিসেব-নিকেশ করছেন বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
এবারের মেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, মেলাকে আগের চেয়ে আরও সুন্দর করে পরিচালনার জন্য বেশ আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এবারের মেলার প্রস্তুতি পর্বের মূল বিষয় হলো মেলার পরিসর বৃদ্ধি করা। তবে ঠিক কত বর্গফুট স্থান বৃদ্ধি পাবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, স্টল ও ইউনিটের সংখ্যা চূড়ান্ত হওয়ার পরই মেলার পরিসর চূড়ান্ত করা হবে।
জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বইমেলায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রকাশনা সংস্থাগুলো আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। গত বছরের বইমেলার নীতিমালা অনুযায়ী, এবারের মেলায় অংশ নেয়ার জন্য তথ্য ফরমের সঙ্গে লেখকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের কপি, লেখকদের রয়্যালিটি প্রদানের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও মেলার স্টল ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার প্যাভিলিয়নের ভাড়া বাড়ছে ২০ শতাংশ, চার ইউনিট ১০ শতাংশ, তিন ইউনিট ৫ শতাংশ হারে। তবে এক ও দুই ইউনিটের স্টলের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
জানা গেছে, মেলায় অংশ নেয়ার জন্য প্রায় ছয়শ প্রকাশনা সংস্থা আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। মেলা পরিচালনা কমিটির যাচাইবাছাই শেষে আগামী ৮ জানুয়ারি স্টল বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি। এর পরই উন্মুক্ত ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে মেলার স্থান নির্ধারণ করা হবে।
জালাল আহমেদ আরও বলেন, সারাদেশ থেকে আগত পাঠকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় ঘুরতে পারেন এবং বই কিনতে পারেন; তার সব ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে এবার। পাঠকদের জন্য মনোরম সজ্জার পাশাপাশি তাদের বসার স্থান বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত ও উন্নতমানের টয়লেটও স্থাপন করা হচ্ছে। এবার মোড়ক উন্মোচনের মঞ্চ আরও দৃষ্টিনন্দন এবং বড় করে তৈরি করা হবে। সে সঙ্গে নতুন বইয়ের স্টলও বড় করা হবে।
এবারও মেলা চলবে বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। সে সঙ্গে এবার অগ্নিবীমার পাশাপাশি স্লাইক্লোন ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাজনিত সৃষ্ট সমস্যাও বীমার আওতায় আনা হচ্ছে। এবারও মেলায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। এবারও মেলা প্রাঙ্গণ থেকে টিএসসি ও শামসুন্নাহার হল হয়ে শাহবাগ মোড় এবং অন্যদিকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় থাকবে। সে সঙ্গে বাংলা একাডেমির অভ্যন্তরে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আটটি আর্চওয়ে বসানো হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরু ১৯৭২ সালে, মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে। ওই বছর বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে চট বিছিয়ে কয়েকটি বই নিয়ে বসেছিলেন তিনি। পরের বছরগুলোতে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন প্রকাশক। ১৯৮৪ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এই মেলা। তখন থেকেই বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়ে আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ওই সময় ৫০-৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিত এই আয়োজনে। সময়ের পরিক্রমায় সেই মেলা এখন পরিণত হয়েছে ‘জাতীয় উৎসবে’। বাংলা একাডেমি চত্বরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে মেলার পরিধি বাড়ানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অমর একুশে গ্রন্থমেলা সবার কাছে বইমেলা নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।
 

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প ও সাহিত্য এর অারো খবর

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd