কাশিয়ানীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটলেন কমিটির সভাপতি
২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:২৩
প্রিন্টঅ-অ+
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
 
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই গোপনে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর সভাপতির বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
 
উপজেলার ফুকরা-গোপালপুর অংশের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দু’পাশের অর্ধশতাধিক নিম,আকাশমনি, শিশু, কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনোজ গাছ কেটে ফেলেছেন ওই কর্মসূচীর সভাপতি এস, এম, দেলোয়ার হোসেন দুলু।
 
এতে প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর অর্ধশতাধিক উপকারভোগী। ফলে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর উপকারভোগীদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর ‘সৃজিত ষ্টিপ’ কমিটির সভাপতি এস. এম. দেলোয়ার হোসেন দুলু ঝড়ে পড়ে যাওয়ার এবং মরে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ও উপকারভোগীদের না জানিয়ে এবং বন বিভাগের কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই মহাসড়কের দু’পাশে রোপন করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলেছেন। গাছগুলো তিনি গোপনে বিক্রি করার চেষ্টা কালে সদস্যদের তোপের মুখে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
 
উপকারভোগী বদরুল সরদার, তোফায়েল আহমেদ ও হোসেন আলী সরদার জানান, কমিটির সভাপতি এস. এম দেলোয়ার হোসেন দুলু ও সদস্য ছলেমান সরদার দু’জনে যোগসাজশ করে ঝড়ে পড়ে যাওয়ার কথা বলে বনায়ন কর্মসূচীর বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলেছেন। বিষয়টি তারা জানতে পেরে বাঁধা দেন এবং বিষয়টি কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে কাটা গাছগুলো তিনি গাছগুলি গ্রাম পুলিশ দিয়ে জব্দ করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এসব উপকারভোগীরা।
 
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর গাছ কাটার কথা স্বীকার করে কমিটির সভাপতি এস. এম. দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, ‘গাছগুলো ঝড়ে পড়ে ছিল। আমি কেটে এনে স্তুপ করে রেখে দিয়েছি। পরে বিষয়টি আমি বন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
 
গোপালগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করি। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রথীন্দ্রনাথ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরকে জানিয়েছি। গাছগুলো এখন তাদের জিম্মায় আছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd