তাজউদ্দীন হাসপাতালে কুকুর বিড়ালের বিচরণ, আতঙ্কে রোগীরা
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+
আবুল হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি
 
 
গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে কুকুর আর বিড়ালের অবাধ বিচরণ ও উপদ্রবসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আতঙ্কে আছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
 
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচ তলার টিকিট কাউন্টারে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুর ঘুর করছে। রোগীদের কেউ কেউ ভয়ে কুকুরটিকে এড়িয়ে দূর দিয়ে চলাচল করছে। এর ঠিক কিছুক্ষণ পর হাসপাতালটির পুরানো ভবনের ভেতরে আবাসিক চিকিৎসকের পেছনে (বর্তমানে) মহিলা ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় আরও একটি কুকুর দ্বিতীয় তলায় ওঠার চেষ্টা করছে। কুকুরটির গায়ে এমন বড় এক ক্ষত রয়েছে, যা পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কুকুরটিকে দেখে রোগীরা দোতলায় ওঠার সাহস পাচ্ছে না, একপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তারা। একপর্যায়ে কুকুরটি লোকজন দেখে দোতলায় না উঠে সরে গিয়ে আরএমও’র কক্ষের পেছেন শুয়ে পড়ল। পরে অপেক্ষায় থাকা রোগী ও তার স্বজনরা দোতলায় ওঠেন। এদিন নতুন ভবনের তৃতীয় তলার প্রশাসনিক বিভাগে উঠতে গিয়ে দেখা গেল সিঁড়ির নিচতলা থেকে উপরের সব তলায় এবং সিঁড়িতে ময়লা জমে আছে। দোতলায় কেন্টিনের পশ্চিমপাশের দেয়ালে ও ছাদে মাকড়সার জাল ঝুলে রয়েছে যেন কয়েক মাস ধরে তাতে ঝাড়–র স্পর্শ পড়েনি। তিনতলায় উঠে পরিচালকে ও উপ-পরিচালককে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন জানালেন তারা ছুটিতে আছেন। তার কক্ষের পাশে সহকারী পরিচালকের কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। পরে স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনকে ওই ভবনের নিচতলায় অবস্থান করা কুকুর ও ময়লা দেখানো হলে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মী ডেকে কিছুক্ষণ শাসিয়ে উপরে তার কক্ষে চলে যান। তিনতলায়  প্রায় আধাঘন্টা অফিস প্রধান মো. নাজমুল হক ও স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে আলেচনার পর নিচে নেমে আসার সময়ও ওইসব ময়লা এবং কুকুর সেখানেই দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কতটা বেহাল, তা এই চিত্র থেকে ভালোভাবেই আঁচ করা যায়। এভাবে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী নানা অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন।
 
গাজীপুর মহানগরের যোগীতলা মহল্লা নিবাসী সুমি আক্তার বলেন, আমার ১৮ মাসের শিশুটির চিকিৎসা নিতে এসে (পুরাতন ভবনের নিচতলার উত্তর পাশে) ৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হয়। সে কারণে আমি ৫ দিন ধরে এ হাসপাতালে আছি। এ কদিনে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। 
 
হাসপাতালে রোগীর বিছানায় কিংবা খাটের নিচে শুয়ে বিড়াল। সুযোগ পেলে রোগীদের প্লেটের খাবার খেয়ে ফেলছে। সময় সময় তারা বমি এবং প্রস্রাবও করে দিচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে হাসপাতালের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কেউ বিড়াল/কুকুর তাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। অথচ কুকুর ও বিড়াল অনেক রোগের জীবাণু বহন করে। তাছাড়া কুকুর জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহন করে। এসব কুকুর, বিড়াল হাসপাতালের উন্মূক্ত ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে ঘোরে। সেখান থেকে জীবাণু নিয়ে বিছানায় উঠে বা খাবারে মুখ দিয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। এছাড়া বিড়ালের আঁচড় থেকেও রোগ হতে পারে। হাসপাতালের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা।
 
এমন সব অস্বাস্থ্যকর দৃশ্যের হরহামেশা দেখা মিলছে এ হাসপাতালে।
 
 
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান জানান, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ৪২ জন আনসার রয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করাতে হচ্ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। তবে বেড়াল-কুকুরে হাসপাতালের ভেতরে  ঢোকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে। এ ব্যাপারে আনসার কমান্ডারকে শো’কজ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd