রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামির কারাদণ্ড
২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:২০
প্রিন্টঅ-অ+
মিজানুর রহমান, বরগুনা
 
 
বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যায় দায়ের করা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামরি মধ্যে ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
 
একই সাথে এ মামলার অপর ৪ আসামিকে ৫ বছর, একজনকে ৩ বছর এবং তিনজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় দিকে বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মোঃ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষনা করেন।
 
রায়ে এ মামলার আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদা, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, মোঃ নাঈম এবং তানভীর হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
 
এ ছাড়া জয়চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিব্বুলাহকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর প্রিন্স মোল্লাকে দেয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া এ মামলার অপর তিন আসামি মারুফ মল্লিক, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
 
মঙ্গলবার সকাল থেকে আদালত পাড়ায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদালতে আসেন। কারাগারে থাকা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছয় আসামীকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সকাল ৯.৩৫ মিনিটের সময় আদালতে আনা হয়েছে। জামিনে থাকা অন্য আসামীরা আইনজীবির মাধ্যমে আদালতে আসেন।
 
মামলার রায়ে আদালতের বিচারক বলেছেন সারাদেশের কিশোর অপরাধীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোর অপরাধীদের যারা গর্ডফাদার তারা তাদের ব্যবহার করতেছে। আদালত বলেছেন কিশোর অপরাধীর সাজা যেহেতু কম সেহেতু তাদের সাজা বৃদ্ধি করে দিলে কিশোর অপরাধ কমে আসবে। আদালত আরো বলেন,এই মামলায় যারা কিশোর অপরাধী ছিলেন এদের বয়স যথাসময়ে নিধারণ করা হয়নি। তাদের অভিভাবকদের যথাসময়ে জানানো হয়নি।এদের সর্ম্পকে প্রবিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি।
 
এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন,আদালতের রায়ে আমরা খুশি। আদালত পর্যবেক্ষনে বলেছেন সারাদেশের কিশোর অপরাধীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোর অপরাধীদের যারা গর্ডফাদার তারা তাদের ব্যবহার করতেছে। আদালত বলেছেন কিশোর অপরাধীর সাজা যেহেতু কম সেহেতু তাদের সাজা বৃদ্ধি করে দিলে কিশোর অপরাধ কমে আসবে। রায়ে এ মামলার আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদা, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, মোঃ নাঈম এবং তানভীর হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
 
এ ছাড়া জয়চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিব্বুলাহকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর প্রিন্স মোল্লাকে দেয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া এ মামলার অপর তিন আসামি মারুফ মল্লিক, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
 
আসামী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট নার্গিস পারভীন সুরমা বলেন,আমার আসামী নির্দোশ। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।
 
নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন,আদালতে রায়ে আমরা খুশি। আমার ছেলের হত্যার সঠিক বিচার পেয়েছি।
 
এ মামলায় পুলিশ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। এরপর ১৩ জানুয়ারি থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।গত ১৪ অক্টোবর বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মোঃ হাফিজুর রহমান উভয়ই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৭অক্টোবর রায়ের জন্যে দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আছাদুজ্জামান। রায়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেন। আর বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
 
গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকণ্ড ঘটে। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd